মুসলিম বিজ্ঞানী ড. উপ্তর শাহিনের নেতৃত্বে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রায় বায়োএনটেকের যুগান্তকারী ক্যান্সার ভ্যাকসিন গবেষণা


ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: ড. উগুর শাহিনের নেতৃত্বে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রায় বায়োএনটেকের গবেষণা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক | জানুয়ারি ২০২৬


চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বিশ্ব। যে mRNA প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্ববাসী করোনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল, সেই একই প্রযুক্তি এবার ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে ক্যান্সারের চিকিৎসায়। জার্মান বায়োটেক জায়ান্ট বায়োএনটেক (BioNTech)-এর প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্বখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানী ড. উগুর শাহিন (Uğur Şahin)-এর নেতৃত্বে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সাল।

ড. উগুর শাহিন এবং তাঁর স্ত্রী ড. ওজলেম তুরেসি মূলত ক্যান্সারের ইমিউনোথেরাপি নিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা যা রোগীর শরীরে প্রবেশ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (Immune System) সুনির্দিষ্টভাবে প্রশিক্ষণ দেবে যেন তা ক্যান্সার কোষ খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে পারে।

নিখুঁত ও ব্যক্তিগত চিকিৎসা (Personalized Treatment)

এই গবেষণার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এটি প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদাভাবে তৈরি করা হবে।

 * একজন রোগীর শরীর থেকে ক্যান্সার কোষের নমুনা নেওয়া হয়।

 * সেই কোষের জেনেটিক মিউটেশনগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

 * এরপর একটি নির্দিষ্ট mRNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় যা কেবল ওই রোগীর ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করবে।

বর্তমান অগ্রগতি ও ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য অনুযায়ী:

 * ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল: বর্তমানে মেলানোমা (ত্বকের ক্যান্সার), অগ্ন্যাশয় (Pancreas), ফুসফুস এবং অন্ত্রের ক্যান্সারের ভ্যাকসিনগুলো মানবদেহে পরীক্ষার (Clinical Trial) বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

 * যুক্তরাজ্যের সাথে অংশীদারিত্ব: ২০২৩ সালে ব্রিটিশ সরকারের সাথে বায়োএনটেকের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ১০,০০০ ক্যান্সার রোগীকে এই পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের আওতায় আনা।

 * ২০২৬ সালের মাইলফলক: ড. শাহিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, ২০২৬ সালের মধ্যেই তারা ফুসফুস বা অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সফল ট্রায়ালের ফলাফল বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি

প্রচলিত কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন পদ্ধতিতে শরীরের সুস্থ কোষও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ড. শাহিনের এই পদ্ধতিতে কেবল ক্যান্সার কোষকেই টার্গেট করা হয়, ফলে সুস্থ কোষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।


বিশ্বের প্রভাবশালী মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে ড. উগুর শাহিন অন্যতম। তাঁর উদ্ভাবনী মেধা এবং মানবজাতির প্রতি নিবেদন আজ ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বকে আশাবাদী করে তুলছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এই টিকা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে এলে ক্যান্সার আর অজেয় কোনো ব্যাধি থাকবে না।

ভুল এড়াতে যেসব বিষয় মনে রাখবেন (আপনার জন্য নোট):

 * ভ্যাকসিন বনাম ঔষধ: মনে রাখবেন, এটি সাধারণ টিকার মতো রোগ হওয়ার আগে দেওয়া হয় না। এটি মূলত রোগ হওয়ার পর ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার জন্য দেওয়া হয় (Therapeutic Vaccine)।

 * সময়সীমা: ২০৩০ সাল একটি লক্ষ্যমাত্রা, এই সময়ের মধ্যে সব ট্রায়াল শেষ করে অনুমোদনের আশা করা হচ্ছে।


Post a Comment

Previous Post Next Post